রির্পোটার মোঃ খুরশীদ আলম | বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট
মিথ্যা ও সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের রহমতচর গ্রামে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন হয়। এতে প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুরপুর ইউনিয়নের রহমত চর এলাকায় ছাগল ঘাস খাওয়া কে কেন্দ্র করে রনজিনা বেগম সাথে মোছাঃ খালেদা আক্তারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এক পর্যায়ে হাতাহাতি ঘটনায় ছয় জনের নামে মামলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ ঘটনার সময় যারা উপস্থিত ছিলো না তাদের আসামী করা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে ছাগল ঘাস খাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় কেউ কাউকে আঘাত করেনি। পেটের বাচ্চা নষ্ট দুরের কথা এটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি ও নিরীহ মানুষকে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। অনেক গ্রামের লোক মুখে শুনেছি মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ রনজিনা বেগম বলেন আমি নামাজ পড়তে ছিলাম হঠাৎ করে খালেদা তার স্বামী, তার মা, তার বোন, এসে আমাকে মারধর করে, আমার হাতে কামড় দেয় যা এখনো আমার চিহ্ন রয়েছে, আমি মার খাওয়ার পরে আমি মামলার আসামি। এটা কেমন বিচার বাংলাদেশে, পুলিশ কি তদন্ত করল, পুলিশ তো দেখেছে আমার কামড়ের দাগ তারপরও আমাকে আসামি করা হলো।প্রশাসনের কাছে আমি এর সঠিক বিচার চাই।
তাম্বলপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন বিচার সালিশে গিয়ে যদি মামলার আসামি হতে হয়, তাহলে তো মেম্বাররা কোন বিচারে যাবে না। আমি ঘটনা শুনতে পেয়ে সেখানে উপস্থিত হই পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করি, অথচ পরে জানতে পারলাম আমি মামলার আসামি । আমি একজন জন প্রতিনিধি হয়ে কিভাবে এলাকায় সমস্যা সমাধান করবো, এই প্রশ্ন সাংবাদিক, চেয়ারম্যান সাহেব, প্রশাসনের কাছে রইল।
মানববন্ধনে বক্তারা আরো বলেন ঘটনা শোনার পরে আমি সেখানে উপস্থিত হই তারপর জানতে পারলাম তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়, অথচ আজ সেটি মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে এই মেয়ে এর আগেও কয়েকজনের নাম একই মামলা করেছে, এই মেয়ে মামলাবাজ, এভাবেই সাধারণ মানুষের কাছে মামলা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে, খালেদা এর আগেও নিজেই নিজের বাচ্চা নষ্টের মামলার নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে, নারী হওয়ার সুযোগ নিয়ে এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন।
এলাকাবাসী রাশেদ বলেন আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই যেখানে এস আই আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেছে তারপরও কিভাবে এই মামলা করা হলো, এখানে দুই আড়াই শো লোক ছিল তারা সবাই পুলিশকে বলেছে ঘটনার ঘটনার দিন কি ঘটেছিল, কোন স্বার্থে এই মামলা নিয়েছে। সাধারণ মানুষ যদি আইনের সঠিক বিচার না পায়, তা হলে তো সাধারণ মানুষের আস্থা পুলিশের কাছ থেকে উঠে যাবে।
এ বিষয়ে মোছাঃ খালেদা আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তার স্বামী বলেন আমি মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে দেখা করব, তারপর আর যোগাযোগ করেনি।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) এ কে এম খন্দকার মুহিব্বুল বলেন কাউকে অন্যায়ভাবে হয়রানি করার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, তদন্ত সাপেক্ষে আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হবে।
Posted ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
dainikbanglarnabokantha.com | Romazzal Hossain Robel
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।